Showing posts with label mind. Show all posts
Showing posts with label mind. Show all posts

Sunday, August 6, 2017

রাতের ট্রেন!

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন, কমলাপুর।
রাত ১০ঃ৩০ মিনিট

ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষা! অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষে ট্রেনের হুইসেল বাজিয়ে যাত্রা শুরু...

ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগ-মুহূর্তে আমার পাশের সিটের কিছু যাত্রী উঠলেন, বাসা-বাড়ির তৈজসপত্র নিয়ে দুই জোড়া বয়স্ক দম্পতি, আর তাদের সাথেই ছিলেন তাদের সন্তানেরা। বোধকরি নিজের বাড়িই যাচ্ছিলেন, বেশ কিছু সময়ের জন্য। অনেকটা সময় নিয়ে জিনিস্পত্র গুছিয়ে উঠে তারপর সবাই মিলে দিলেন এক ঘুম। রাতের ট্রেনের ভিতরে সব বাতি নিভিয়ে দেয়া হয় না, বেশ কিছু জ্বলতেই থাকে। এর মাঝেই বৃদ্ধ দম্পতির একজন (মনে হয় বসার সমস্যা হচ্ছিল) প্রায় পুরোটা সময় মোটামুটি হেলান না দিয়ে খাড়াভাবে বসে থেকেছেন। ঘুমোতেও বোধকরি তার সমস্যা হচ্ছিল। আর থেকে থেকে মুখ দিয়ে আওয়াজ বের করছিলেন, যাতে তার অস্বস্তিই প্রকাশ পাচ্ছিল।

ইদানিং ট্রেন জার্নিটা আমার খুব পছন্দের হয়ে উঠেছে! আমাদের দেশের ট্রেনগুলোও বেশ উন্নত হয়েছে এখন। বেশ কিছু নতুন নতুন বগি এসেছে, তাদের ভিতরের ডেকোরেশন খুব সুন্দর, টয়লেটগুলো পরিস্কার আর এসি গুলোও চমৎকার কাজ করে! সবচাইতে যেটা বেশি পছন্দ হয়েছে তা হল জানালাগুলো - বিশাল সুন্দর জানালাগুলো দিয়ে খুব সন্দর দৃশ্য দেখার সুবিধা! আমার কপাল খারাপ, এই ট্রেনে উঠলাম রাতের বেলা! বাইরে তাকিয়ে দেখার কিছুই নেই! মনটাই খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে।

ফজরের একটু আগে।
পথিমধ্যে কোথাও ঃ সূর্যোদয়

কি আর করা! ট্রেন কিছুদুর এগুতেই চোখে চলে আসল ঘুম। প্রায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে সারারাত ঘুমের পর ঘুম আমার ভাঙল মোবাইলে বেজে ওঠা ফজরের আজানের এলার্ম-এ। ঘুম ভেঙ্গে নামাযটা সেরে (তখনও পুরোপুরি অন্ধকারটা কাটেনি) জানালার দিকে একটু কাত হয়ে কিছুটা ঝিমুচ্ছিলাম।

কিছু সময় পার না হতেই সকালের আলোর ছটা চোখে পড়ল। বাইরে তাকিয়ে দেখি ধীরে ধীরে রাতের আঁধার কেটে ভোরের আলো দিগন্ত আলোকিত করছে। সেই আঁধারের বিদায়ের দৃশ্য যতটা না করুণ তার চাইতে মধুর হল আলোর আগমনী বার্তা। কি অদ্ভুত সেই দৃশ্য।

সেই মোহ কাটতে না কাটতেই চোখের সামনে ভেসে এল আরেক অপার সৌন্দর্য্যের লীলাখেলা! ভোরের সেই অন্ধকার কাটিয়ে দিয়ে পূর্বাকাশে ভেসে উঠল সকালের প্রথম সূর্য্যের আলো। কি অবাক করা মনোরম সৌন্দর্য্যে ভরা সেই দৃশ্য! আমি অবাক তাকিয়ে রইলাম। নিজের মনেই চিন্তা করতে লাগলাম, প্রতিদিনই তো আমি এই দৃশ্য দেখি, অথচ আজ কেন তা অন্যদিনের মত নয়? এ যেন এই পৃথিবীর কোন দৃশ্য নয়! এ যেন অন্য কোন ভুবনের আলোকচ্ছটা।

নিজের অজান্তেই মনের এক কোণে ভেসে উঠল দুই লাইন কবিতা (নিজের লেখা; তখনও লিখিনি যদিও) । নাহ! এইটা আমার মনের অবচেতন চিন্তা। ভোরের আকাশে দিনের প্রথম সূর্য্যের আলোতে আমি ভেসে চলেছি দুরন্ত এক ট্রেনে করে অজানা কোন এক গন্তব্যে, জানিনা কখন গিয়ে পৌঁছাব, জানিনা আদৌ পৌঁছাব কিনা!

হঠাৎই লক্ষ্য করলাম কখন যেন চোখের কোণ ভিজে গেল আমার। কি অদ্ভুত সুন্দর অপার্থিব দৃশ্য! ট্রেন ছুটে চলেছে সবুজ ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে, মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে সারি সারি বৃক্ষ্যরাজি। কিছুদুর পর পর ফেলে চলেছি একটা একটা করে গ্রাম অথবা গ্রামের বাজার। দূরে দেখা যাচ্ছে সবুজ ক্ষেতের মাঝে উড়ে যাচ্ছে চেনা-অচেনা পাখি আর দূরে দেখা যাচ্ছে ঘন সবুজের সমারোহ। এই সবুজের মাথায় চড়ে বসেছে অদ্ভুত সুন্দর এক আলোকচ্ছটার মুকুট! নীল আকাশের বুক চিরে ঝলমলিয়ে বেরিয়ে আসা সেই আলোকচ্ছটা মূহুর্তেই প্রস্ফুটিত করে দিতে পারে যে কোন প্রাণকে। আকাশে কিঞ্চিৎ মেঘের সমারোহ সেই দৃশ্যকে করে তুলেছে আরও নাটকীয়। আমি ঠিক কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। নিজেকে আর নিজের মাঝে খুঁজে পেলাম না... আর এই না খুঁজে পাবার মধ্যেও মনের কোন এক কোণে কেন যেন আনন্দ অনুভব হচ্ছিল।

কি যেন এক অদ্ভুত খেয়ালে আমি আমার আশেপাশে কিছু কাগজ খুঁজতে লাগলাম। আমার মনে হল, ঠিক এই মূহুর্তে আমার হাতে যদি একটি কাগজ আর কলম থাকত তাহলে হয়ত রচনা হয়েও যেতে পারত আমার জীবনের প্রথম কোন কবিতা! (ধুর! কি আজব চিন্তা!)

আমাদের কবি-সাহিত্যিকেরা কি এভাবেই রচনা করে ফেলেন বড় বড় গদ্য, সাহিত্য, উপন্যাস!? তারা কি আমাদের এই চিরচেনা, প্রতিদিনের দেখা দৃশ্যগুলোকেই ভিন্নভাবে, ভিন্নচোখে দেখেন? তা নাহলে একই সমাজে একই পরিবেশে বাস করে তাদের পক্ষে কি করে সম্ভব আমাদের থেকে এতটা ভিন্নভাবে চিন্তা করা?

আমার জীবনে আমি বহুবার নিজের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় চেষ্টা করেছি অল্প কিছু লেখার, হোক না তা নিজের ব্যক্তিগত ডাইরির জন্য! অনেক সময় অনেক বড় লেখা লিখেছি, অনেক সময় লিখেছি মাত্র দুই লাইন। কিন্তু যেদিনের বর্ণনা উপরে দিলাম, সেদিন আমার মনের অবস্থাটা ছিল ভিন্ন। কেমন জানি! এই যেমন এখন এতটুকু লিখেই আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। কিন্তু সেদিন আমার হাতে যদি শুধু একটা কলমও থাকত, তাহলে হয়ত আমি হাতের টিস্যুটাতেও কিছু না কিছু লিখে ফেলতাম।

হয়ত সেদিনের মত করে আমার যাত্রাগুলো আমি এর আগে কখনই অনুভব করিনি। আমি হয়ত কখনই মানসিক প্রশান্তিতে সেই মূহুর্তগুলোকে অনুধাবন করতে পারিনি। হয়ত সেদিন একটু বেশি মাত্রায়ই মানসিক প্রশান্তিতে ছিলাম। এমন প্রশান্তি আমি হয়ত এই জীবনে আর কখনও অনুধাবন করিনি। আসলেই আমাদের মনের অবস্থা আমার চিন্তাশক্তিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। আর এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই হয়ত বড় বড় কবি-সাহিত্যিকদের জন্ম হয়। আর আমার জন্য আপাতত এই লেখাটাই যথেষ্ট!

সেদিনের সেই যাত্রাটা আমার জীবনের স্মরনীয় এক যাত্রা হয়েই থাকবে আমার কাছে।

Thursday, April 7, 2016

কোটিপতি...

“আচ্ছা ভাই, ট্যাকা পাইলে মানুষের ব্যবহার বদলায় যায়, না?”
“কিছুটা তো বদলায়”
“আপনারে তহন অন্যভাবে দেখে, না?”
“হুম!”
“বুঝছেন ভাই, ট্যাকা মাইনষেরে বদলায় দেয়”
“হুম!”
“ভাই, আমি না কিছু জমি বেচছি বুঝছেন! আমার কিছু জমি ছিল, অনেক কষ্ট কইরা রাইখা দিছিলাম আমি আর আমার মায়।“
“হুম”
“ভাই হেরডা বেইচা দিল, আর আমি আমারটা রাইখা দিছিলাম... তহন এই জমির দাম আছিল ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা শতক...”
“হুম!”
“আমি বেচি নাই, কষ্ট কইরা রাইখা দিছি... ঢাকার আইয়া রিশকা চালাইছি... আর এই যে গেল মাসে জমিডা বেইচা দিলাম...”
“কত দিয়া বেচলা?”
“ভাই, অহন দাম উঠছে ৩৫০,০০০ টাকা শতক!”
“বল কি!!!”
“হ ভাই, আমি জায়গা বেইচা বাড়িত আছিলাম সাতদিন... এই সাতদিনে মনে করেন আমার এমন কুনো আত্মিয় স্বজন নাই যে আমারে খোঁজ নেয় নাই...”
“হুম...”
“এমন লোক, যার বাড়িতে গেলে আমারে ড্রয়িংরুমে বইতে দেয় নাই, হেই বেডায়ও আমার বাড়িতে আইয়া আমার খোঁজ নিয়া গেসে... আমারে ফোন দিসে... মনে করেন সাত দিনে মেহমানদারি করতে গিয়া আমার ২৫,০০০ টাকা খরচ হয়া গেসে...”
“বল কি!!”
“ভাই, লোকে আমারে বুদ্ধি দেয়, এইডা কর ওইডা কর... আমি ভাই বুইঝা শুইনা ট্যাকা খরচ করতাছি... ভাইডারে একটা ট্রাক্টর কিন্না দিছি, খরচ হইসে ১৭,০০,০০০ টাকা”
“বল কি মিয়া! ট্রাক্টর কিনতে এত খরচ!?”
“ট্রাক্টর আর সাথে আরও যন্ত্রপাতি আছে... বড় ক্ষেতে একবারে চাষ করা যাইব...”
“হুম...”
“আর বাকি ট্যাকা নিয়া আমি ঢাকায় চইলা আইসি... ব্যাংকে রাখসি... আর অহন আমি পরামর্শ করতাসি কি করা যায়... এক আর্মি স্যার আমারে কইসিল কিছু বুদ্ধি দিব, আমারে ফোন দিসে...”
“দেইখ, বুইঝা শুইনা কাজ কইর... সবাইরে বিশ্বাস করতে যাইয়ো না...”
“নাহ্‌, আমি হিসাব কইরাই চলতাসি...”


(conversation continues…)


এই conversation এর মাঝে আমি realize করলাম যে আমি এক কোটিপতি রিকশাওয়ালার রিকশাতে চড়লাম... যে তার কোটি টাকার (হিসেব থেকে আন্দাজ করলাম সে প্রায় দেড় কোটি টাকার জায়গা বেঁচে এসেছে) জায়গা বেঁচে এসেছে আর তারপরও সে এখনও রিকশা চালাচ্ছে...

আসলে আমাদের দেশের সব রিকশাওয়ালাই কিন্তু গরীব না, কেউ কেউ আছে যারা আসলে নিজ দেশে কাজের অভাবে ঢাকায় আসে, আর এখানে এসে কাজ করে কাজের খাতিরে, কাজ নিয়ে থাকার জন্য (আমার realization)... so next time কোন রিকশাওয়ালার সাথে খারাপ ব্যবহার করার আগে দশবার চিন্তা করে নিয়েন, may be he is richer than you are…

That Awkward Moment...

পটভুমি:

বাসার ড্রয়িংরুম, ফ্যান ঘুরছে, সোফায় বসা আমি, হাতের কাছে দুটি গ্লাস, একটিতে পানি আরেকটিতে বেলের শরবত...

ঘটনা প্রবাহ:

যদিও প্রচুর পানি পিপাসা পেয়েছে প্রায় 1:30 ঘন্টা হাঁটার পর, তারপরও থেকে থেকে বেলের শরবতের গ্লাসের দিকেই চোখ যাচ্ছিল... জিজ্ঞাসা করাতে জানতে পারলাম যে খুব বেশি চিনি দেয়া হয়নি শরবতে, তাই ঠিক করলাম যে শরবতটাই খাব... এরই মাঝে উনি এসে আমার সাথে বসলেন আমাকে সংগ দেবার জন্য...

"বাসার সবাই কেমন আছে?"
"জ্বি, ভালো..."
(বলতে বলতে শরবতের গ্লাসে চুমুক দিলাম)
"আজকে অফিস থেকে কোথায় কাজ ছিল?"
"জ্বি, লালমাটিয়া..."
(আবারও এক চুমুক খেলাম)
"অফিসে ফিরেছ কখন?"
"বিকালে..."
(চুমুক continues)
"তোমার অফিসের কোন বস নাকি অসুস্থ?"
"জ্বি, ওনার ক্যান্সার ধরা পড়েছে, সিঙ্গাপুরে আছেন, কেমোথেরাপি নিচ্ছেন..."
"ও আচ্ছা!"
"জ্বি"
(আবারও এক চুমুক)

কিছুক্ষণের নীরবতা... মাঝেমাঝে শরবতের চুমুক আর আবার নীরবতা... ঘরে শুধু আমরা দুটি প্রাণী, এরই মাঝে ফ্যানের বাতাসের আওয়াজ আর তারপর আবারো নীরবতা... মনে মনে আকাশ বাতাস আউড়ে বেড়াচ্ছি 'আর কি বলা যায়...' নাহ! কিচ্ছু মনে পড়ছে না...

তখন আমি আবারও মনোযোগী হলাম আমার শরবতের গ্লাসে... পরপর কয়েক চুমুকে গ্লাস খালি করার পর উনি আস্তে করে উঠে বল্লেন,

"যাও বাবা, এবার ঘরে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও..."
"জ্বি"

(perhaps probably the most awkward conversation of my life... this happens everytime when I meet my father-in-law)

Saturday, May 30, 2015

পরাধীন মনের হাবিজাবি চিন্তা!

'পা' কে যদি 'পা' না বলে 'হাত' বলা হত? 'হাত' কে যদি 'হাত' না বলে 'পা' বলা হত?
'সোজা' কে যদি 'উল্টা' আর 'উল্টা' কে যদি 'সোজা' বলা হত?
'ভালো' কে যদি 'খারাপ' আর 'খারাপ' কে যদি 'ভালো' বলা হত?

মাঝেমধ্যে ভালো আর মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারাতে কিছুটা এমনই ধারণা জেগে উঠে মনে... অথবা কে জানে, হয়তবা মন্দটাই তখন আকর্ষণীয় মনে হয়... হয়তবা মন্দটাই তখন পেতে চাই... মন্দটাতেই ভালো খুঁজতে চায় মন...

মন ভালো নেই...

আমাদের সারাটা জীবন চলে যায় অন্যের জন্য বেঁচে থাকতে... আমরা সামাজিক জীব, সমাজের আর দশটা মানুষের সাথে মিলেমিশে চলতে হয়... সবার মন রক্ষা করে চলতে হয়... আর কেউ না হোক কমপক্ষে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সৃষ্টিকর্তার মন রক্ষা করে চলতে হয়, তার দেখানো পথে চলতে হয়... আমরা আসলে কিন্তু স্বাধীন নই! আমরা পরাধীন! নিজের মন যখন যা চাইলো আমরা তাই করতে পারিনা...

আমরা বেঁচে আছি, নিঃশ্বাস নিচ্ছি, কিন্তু কোন নিশ্চয়তা নেই কতক্ষণ! আমরা পড়ালেখা করছি, বড় হচ্ছি, কিন্তু সেটা নিজের জন্য নয়, সাথের মানুষগুলোর জন্য... আমরা চাকরি করছি, ব্যবসা করছি, উপার্জন করছি, কিন্তু খরচ করতে আমরা পরাধীন! আমাদের কোন স্বাধীন চিন্তা বলে কিছু নেই... প্রতি মূহুর্তে আমাদের চিন্তাধারা প্রভাবিত হচ্ছে আমাদের চারপাশের বিভিন্ন উপাদান দিয়ে... এদের মধ্যে পরিবেশ, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ, আলো, বাতাস সবই পড়ে যায়...

এর বাইরেও একটি দেশে বাস করতে গিয়ে আমরা সারাক্ষণ সরকারী আর ধর্মীয়ভাবে আমরা সৃষ্টিকর্তার নজরদারীর মধ্যে আছি... ধর্মীয়ভাবে যদি এর ব্যাখ্যা দিতে যাই তাহলে বলতে হয়, আমরা 'গোলাম'... আমরা 'আব্‌দ'...

দুনিয়াতে আমাদের যত টাকা পয়সাই থাকুক আর না থাকুক, আমরা যেমন কোন নজরদারীর বাইরে নই; ঠিক তেমনিভাবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছেও বাঁধা... under 24 hours surveillance...

Wednesday, April 8, 2015

feeling পুরাই মাথা নষ্ট!

একটা পুরনো টাইপ রাইটার, তাতে বেজেই চলেছে টাইপিং-এর শব্দ...
টাইপ করতে করতে রাইটারের মাথা খারাপ অবস্থা, মেশিন দিয়ে রীতিমত ধোয়া বের হচ্ছে...
দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যে কিছু একটা তোলপার হয়ে যাচ্ছে সেখানে অথবা ঝড় বয়ে যাচ্ছে...
মনে হচ্ছে এখনি ফায়ার সার্ভিসকে একটা কল দিই আর আসতে বলি আগুন নেভানোর জন্য...

মানুষের মাথার সাথে যদি কোন টাইপ রাইটার জাতীয় কিছু একটা এটাচ করে দেয়া যেত, যার কাজ থাকবে একটা মাথা সারাক্ষণ যা যা চিন্তা করে সাথে সাথে তা টাইপ করে ফেলা, তাহলে হয়ত ওইরকম কিছু একটা ঘটত... টাইপ করতে করতে মেশিন নষ্ট হবার অবস্থা... মানুষের মাথাই নষ্ট হয়ে যায়, ওইটাতো একটা অবলা মেশিন...

সারাক্ষণ মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে শতাধিক চিন্তাধারা, অজস্র বিষয়... কোনটা রেখে কোনটায় ফোকাস করব? কি থেকে কি চিন্তা করব? কিছু বুঝে উঠার আগেই নতুন আরও কিছু চিন্তা এসে জমাট বাঁধে মনে... অত্যন্ত কমপ্লিকেটেড এই লাইফটাকে আরও একটু কমপ্লিকেটেড করতে এই একটা মাথাই যথেষ্ট...

Monday, April 6, 2015

আমি আর আমার স্বপ্ন!

অনেকক্ষণ ধরেই দোড়াচ্ছি, সাথে আরও দুইজন দোড়াচ্ছে, তাদের চেহারা ঠিক মনে করতে পারছি না, কেন যে দোড়াচ্ছি বুঝে উঠার সময় নাই... তবে এইটুকু ধরতে পারছিলাম যে কিছু একটা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি... ভয়ে, আতঙ্কে! অন্ধকার রাতে ভাঙ্গা বাড়ির ভিতর দিয়ে, পুরনো বারান্দা দিয়ে, আন্ডার-কনস্ট্রাকশন বিল্ডিং-এর নিচ দিয়ে সে কি দৌড়, আশেপাশে আর কেউ নেই, শুধু আমরাই দৌড়াচ্ছি, যা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি তাও দেখা যাচ্ছে না, তারপরও দৌড়াচ্ছি...

দৌড়াতে দৌড়াতে এসে পড়লাম একটা বিশাল খোলা জায়গায়, এখানে আবার দিনের ঝকঝকে আলো, বেশ কিছু বাচ্চা-কাচ্চা খেলা করছে মাঠে, অনেকক্ষণ পর কিছু মানুষ দেখলাম, প্রাণের সঞ্চার হল... এদের দেখে একটু শান্তি পাচ্ছিলাম মাত্র ঠিক এমন সময় আমার সাথের দুইজন আবার দৌড় শুরু করল... তাদের দেখে আমিও দৌড়, সেই মাঠের পাশেই ছিল একটা ডোবার মত জায়গা, পানি আছে, কালো পানি, সেখানে মাছি উড়ে বেড়াচ্ছে, তার পাশ দিয়েই একটা বাউন্ডারি দেয়াল, সেই দেয়ালের উপর দিয়ে চড়ে জানালা দিয়ে ঢুকে গেলাম আরেকটা পুরনো বাড়ির ভিতরে...

একটা খালি রুম, দেখে মনে হল কিছুকক্ষণ আগে এইখানে থেকেই দৌড় শুরু করেছিলাম, এই রুমেও কেউ নেই, কিছু ভাঙ্গাচোরা আসবাব আর একটা খাট, খাটের উপর বেশকিছু প্লেট সাজানো, সেই প্লেটগুলোতে রাখা কিছু বার্গার (!)... বার্গারগুলোতে আবার পিঁপড়া আর মাছি চড়ে বেড়াচ্ছে, ধরাই যাচ্ছে না, তারপরও ক্ষিদে বোধহয় এতই ছিল যে সেখান থেকেই একটা হাতে নিয়ে খেতে শুরু করলাম... এরপর আবার পাশের আরেকটা জানালা দিয়ে বের হয়ে এসে পড়লাম একটা প্যাসেজে... এখানে আবার অন্ধকার, দূরে কিছু লাইট টিমটিম করে জ্বলছে, তাতে কিছু আবছা বোঝা যাচ্ছে, কোথাও কেউ নেই, কোন সাড়াশব্দ নেই... আমরা কিছুদূর এগোতেই দেখলাম একজন মানুষ, একটা মেয়ে, হাতে পানির একটা পাত্র (জগ বা গ্লাস, খেয়াল নেই)... আমাদের দেখেই আঁতকে উঠে, কিন্তু কোন আওয়াজ করে না...

প্যাসেজের এই জায়গাটা একটা চার-রাস্তার মাথার মত, চারদিক থেকে চারটা প্যাসেজ এসে এই জায়গাটায় এক হয়ে গেছে এবং এইখানেই চারদিক থেকে চারটা গেট লাগানো... আমরা ছিলাম গেটের একপাশে আর মেয়েটা ছিল আরেকপাশে... আমরা কেন জানি খুব সাবধানে কোন আওয়াজ ছাড়া চেষ্টা করে যাচ্ছি গেটটা পার করে অপর পাশে যাওয়ার, একজন গেটের নিচ দিয়ে চলেও যেতে পারল, আমরা বাকি দুইজন দাঁড়িয়ে রইলাম, ভিন্ন উপায় খুঁজছি, ঠিক এমন সময় মেয়েটার হাতের পানির পাত্রটা পড়ে গেল আর বিকট একটা শব্দ হল...

একটা পিন-ড্রপ সাইলেন্স ভেঙ্গে গিয়ে শব্দটা ছাপিয়ে গেল পুরো প্যাসেজের এপাশ থেকে ওপাশ, আর অদূরেই আমরা দেখতে পেলাম বেশ কিছু মানুষ জটলা করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে ছিল... এই আওয়াজে তাদের সবাই আমাদের দিকে ঘুরে তাকালো, আর মুহুর্তের মধ্যেই সবাই আমাদের দিকে ধেয়ে আসতে লাগল... কেন আসছে বুঝে উঠার আগেই দেখি এর মধ্যে একজন আমার এক সাথীকে ধরে ফেলল, আর ঠিক তখনি আমার সামনেও আরেকজন দাঁড়ানো, আমার চাইতে বেশি লম্বা আর চশমা পরা, আমার দিকে তাকিয়ে, মুখ দিয়ে অদ্ভুত সব আওয়াজ করছে... ঠিক পাশেই আরেকজন এগিয়ে আসে আমার দিকে, আমার চাইতে লম্বায় ছোট, কিন্তু অদ্ভুত রকমের এগ্রেশন চোখে মুখে...

আমি ভয় পাব নাকি দৌড় দিব বুঝে উঠার আগেই হঠাৎ আবার লম্বা মানুষটার দিকে তাকিয়ে দেখি সেইটা একটা zombie!!!... ধুর! এইটা একটা স্বপ্ন ছিল! আর তখনই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল... ঘুম ভেঙ্গে দেখি রাত রাজে ৩টা, বাইরে মেঘের ডাকে আতংক জেগে উঠে মনে... রুম থেকে বের হয়ে কিছুকক্ষণ বারান্দায় হাটাহাটি করলাম, ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদার, বাতাসটাও ভালো লাগছে... মুহুর্তের মধ্যেই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি শুরু হল, ঝুম বৃষ্টি আর সাথে মেঘের গর্জন...
এরই মধ্যে বিছানায় শুয়ে শুয়ে এই কাহিনীটা লিখতে গিয়ে হঠাৎ মনে হল একেবারে শেষে যে মানুষ দুইজনের কথা বললাম, তাদের চেহারা কিন্তু আমার মনে আছে, আর আমি এইটা ভেবেই অবাক হচ্ছি যে এরাই কেন!? এক্কেবারেই irrelevant!?

Saturday, June 16, 2012

আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে...

পৃথিবীতে এখন জলবায়ু সংকট চলছে। সারা বিশ্বের জলবায়ু এখন বিপর্যয়ের শিকার। বাংলাদেশও এর থেকে দূরে নয়। বরং বাংলাদেশই সবার আগে এর শিকার হবে বা হচ্ছে!

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গতকাল থেকে আষাঢ় মাস শুরু হয়েছে। এইবছর যেভাবে শীত, গরম সময়মত আসেনি, সময়ের আগে পরে এসেছে; তাতে ধারণা করা হচ্ছিল যে এইবার বর্ষাও দেরি করে শুরু হবে। গতকালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও ৩-৪ দিন পর বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু আজ সকাল থেকে ঘন্টাখানেক বৃষ্টি হয়ে গেছে। আহ! চরম গরমের পর শান্তির ধারা বয়ে চলেছে।

এই বছর আমাদের দেশে যা গরম পড়েছে তার সাথে মরুভুমির দেশে জেদ্দার তাপমাত্রার পার্থক্য ক্ষেত্রবিশেষে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এই ভয়াবহ গরমের পর এই অধর বর্ষা অবশ্যই আশীর্বাদ স্বরুপ। 

বৃষ্টি দেখেই সকাল থেকে একটা গান মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে-

আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে
জানি নে জানি নে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না...
আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে...

Monday, August 22, 2011

পরীক্ষা এবং তেলাপোকা!

টাইটেল দেখে মনে হতে পারে আমি পাগল হয়ে গেছি। কিন্তু না, আমি পাগল হইনি। একটা ঘটনা শেয়ার করতে চাই। শুনলেই বুঝবেন কি বলতে চাচ্ছি।

এই বছর ভয়াবহ গরম পড়েছে। গরমের সাথে আছে চরম বৃষ্টি। আর এখনতো বর্ষাকাল। তাই প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। আর খুবই স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ছোট ছোট পোকা-মাকড়ের উৎপাত। আমাদের বাসাতেও একই অবস্থা। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা অনুভব করলাম বাসায় তেলাপোকার উৎপাত একটু বেশিই বেড়েছে। তাই প্রতিদিনই তেলাপোকা মারার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরও উৎপাত কমছে না।

এমতাবস্থায় আমার আম্মু অনেক চিন্তা করে খুঁজে বের করল যে আমার বোনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কারণেই তেলাপোকাগুলো মারা যাচ্ছে না। আমি অবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, মানে কি? আম্মুর অভিমত হচ্ছে, আমার বোনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তার এখন কোন কাজ নেই। তাই সে রাত জেগে থাকে। সে রাত জাগলে ঘরের লাইট জ্বালানো থাকে। আর ঘরের লাইট জ্বালানো থাকলে তেলাপোকাগুলো বের হয় না। আর তেলাপোকাগুলো যদি না বের হয় তাহলে তেলাপোকার ওষুধে কিভাবে কাজ হবে!

আমি অবাক হয়েই বলতে বাধ্য হলাম, কথায় যুক্তি আছে।