Sunday, August 5, 2012

নতুন প্রজাতির ডেঙ্গু!

সাধারণত ডেঙ্গু-জ্বর কেমন হয়? প্রচন্ড জ্বর থাকে, সাথে বমি ভাব, গায়ে র‍্যাশ আর তার সাথে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়। এই লক্ষণ গুলো খুবই সাধারন এবং সবার মধ্যে দেখা যায়, যাদের ডেঙ্গু হয়।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হল ভিন্ন জিনিষ! আমার জ্বর শেষ আরও ২দিন আগে। বমি ভাবও চলে গেছে। খাওয়া দাওয়া ঠিকমতই করতে পারছি। এরমধ্যে ডাক্তারের অনুরোধে রক্ত পরীক্ষা করতে গেলাম। দেখি আমার প্লাটিলেট কমে গেছে। সাধারণত থাকার কথা ১৫০,০০০ এর চাইতে বেশি, আমার ছিল ৪০,০০০।

এত কমে যাওয়ার পরেও আমি দিব্যি ঘরে ছিলাম, নিজেই খাওয়া দাওয়া করলাম। আল্লাহর রহমতে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় নাই। একটা স্যালাইন দিয়েই কাজ হয়ে গেছে। একদিনেই মাশাআল্লাহ প্লাটিলেটও উপরে উঠে গেছে। জ্বর তো একেবারেই ছিল না। 

Saturday, June 16, 2012

আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে...

পৃথিবীতে এখন জলবায়ু সংকট চলছে। সারা বিশ্বের জলবায়ু এখন বিপর্যয়ের শিকার। বাংলাদেশও এর থেকে দূরে নয়। বরং বাংলাদেশই সবার আগে এর শিকার হবে বা হচ্ছে!

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গতকাল থেকে আষাঢ় মাস শুরু হয়েছে। এইবছর যেভাবে শীত, গরম সময়মত আসেনি, সময়ের আগে পরে এসেছে; তাতে ধারণা করা হচ্ছিল যে এইবার বর্ষাও দেরি করে শুরু হবে। গতকালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও ৩-৪ দিন পর বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু আজ সকাল থেকে ঘন্টাখানেক বৃষ্টি হয়ে গেছে। আহ! চরম গরমের পর শান্তির ধারা বয়ে চলেছে।

এই বছর আমাদের দেশে যা গরম পড়েছে তার সাথে মরুভুমির দেশে জেদ্দার তাপমাত্রার পার্থক্য ক্ষেত্রবিশেষে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এই ভয়াবহ গরমের পর এই অধর বর্ষা অবশ্যই আশীর্বাদ স্বরুপ। 

বৃষ্টি দেখেই সকাল থেকে একটা গান মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে-

আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে
জানি নে জানি নে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না...
আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে...

Friday, November 25, 2011

একটা কাক!

যদিও বৃহস্পতিবার, তারপরও বাসায় ছিলাম। ঘুম ভাঙল সোয়া ১১টায়। ঘুম ভেঙ্গে মোবাইলের দিকে চোখ যেতেই দেখলাম দুইটা রিমাইন্ডার। একটা জরুরী ফোন করার দরকার ছিল ১১টায়। তাড়াতাড়ি উঠে ফোন করলাম। কথা বলতে বলতে গেলাম বারান্দায়। আমার অভ্যাস হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা। 

কথা বলা শেষ করে রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখলাম আমাদের বাসার সামনে গেটের ভিতরে এলাকার কিছু পোলাপান হৈচৈ করছে। তাকিয়ে দেখলাম একটা কাক বসে আছে, আর সব পিচ্চিগুলা ওইটাকে ঘিরে আছে। একজন দেখি লাঠি নিয়ে এসেছে খোঁচাখুঁচি করবে মনে হয়। আমি দিলাম এক ধমক। সব পিচ্চি দৌড়। কাকটি তারপরও বসে আছে। উড়ে যাচ্ছে না।

নিচে নামলাম। দেখি কাকটা আহত। একটা পা আর সম্ভবত গলা। উড়তে চেয়েও পারছে না। আমি কাকটাকে একটু সাইডে নিয়ে গেলাম। একটা কোনে থাকার জায়গা দিলাম যাতে আর কেউ খোঁচাখুঁচি করতে না আসে। পানি দিলাম। একটু একটু করে অনেকখানি পানি খেয়ে ফেলল। বুঝলাম ক্ষুধার্ত ছিল। খাবার দিলাম, তেমন একটা খেল না। কিন্তু বারবার পানি খাচ্ছে। আমি ওই অবস্থায় রেখে চলে আসলাম।

একটু পর দেখি কয়েকটা কাক একসাথে ডাকাডাকি করছে। বারান্দায় গিয়ে দেখি তিন চারটা কাক এসে এসে দেখে যাচ্ছে  আহত কাকটিকে। এর মধ্যে একটা কাক উপরে তারে বসে মুখে করে খাবার এনে নিচে বসা কাকটির দিকে ফেলছে। মানে কাকগুলো তাদের আহত বন্ধুকে অথবা পরিবারের সদস্যকে সেবা করছে।

আমি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ভালো লাগল। 

চড়ুই বিপত্তি (ফলো-আপ)

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১০ তারিখে লেখা আমার একটা ব্লগে আমি একবার চড়ুইয়ের কাহিনী উল্ল্যেখ করেছিলাম (লিঙ্কটা দিয়ে দিলাম- http://diary-rezwan.blogspot.com/2010/09/blog-post_22.html)। তারই ফলোআপ হিসেবে এই পোস্ট।

আজ (বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১১) বিকেলে খেয়াল করলাম আমার বারান্দায় আবারো চড়ুইয়ের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিচির মিচির শুনতে আমার ভালোই লাগে। আমার খুব ভালো লাগল যে এরা আবার ফিরে এসেছে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম এরা আমার গাছে চড়ে বারান্দায় ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে থাকায় ভিতরে আসছে না। তাই আমি ভিতরে চলে গেলাম, আর লুকিয়ে ওদের কান্ড দেখতে লাগলাম।

আমি দেখলাম, প্রায় বছর খানেক আগে আমার গাছ বাঁচানোর জন্য আমি চড়ুইয়ের যেই বাসাটা ঝুলিয়ে ছিলাম, তাতে বসে আছে এক চড়ুই। আর আরেকটা বসে আছে আমার গাছের ডালে। দেখে ভালো লাগল। আমার এতদিনের শখ ছিল যে খাঁচায় বন্দি না করে কিভাবে পাখি পোষা যায়, আমার মনে হয় সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

আমি খাবার দিলাম। ওরা সেই খাবার খুটিয়ে খেল। তারপর কিচির মিচির করতে করতে বাসায় ঢুকে গেল।

আহ! শান্তি! দেখে ভালো লাগল! আর তাই এই ফলোআপ পোস্টটা লিখলাম। 

Monday, August 22, 2011

পরীক্ষা এবং তেলাপোকা!

টাইটেল দেখে মনে হতে পারে আমি পাগল হয়ে গেছি। কিন্তু না, আমি পাগল হইনি। একটা ঘটনা শেয়ার করতে চাই। শুনলেই বুঝবেন কি বলতে চাচ্ছি।

এই বছর ভয়াবহ গরম পড়েছে। গরমের সাথে আছে চরম বৃষ্টি। আর এখনতো বর্ষাকাল। তাই প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। আর খুবই স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ছোট ছোট পোকা-মাকড়ের উৎপাত। আমাদের বাসাতেও একই অবস্থা। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা অনুভব করলাম বাসায় তেলাপোকার উৎপাত একটু বেশিই বেড়েছে। তাই প্রতিদিনই তেলাপোকা মারার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরও উৎপাত কমছে না।

এমতাবস্থায় আমার আম্মু অনেক চিন্তা করে খুঁজে বের করল যে আমার বোনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কারণেই তেলাপোকাগুলো মারা যাচ্ছে না। আমি অবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, মানে কি? আম্মুর অভিমত হচ্ছে, আমার বোনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তার এখন কোন কাজ নেই। তাই সে রাত জেগে থাকে। সে রাত জাগলে ঘরের লাইট জ্বালানো থাকে। আর ঘরের লাইট জ্বালানো থাকলে তেলাপোকাগুলো বের হয় না। আর তেলাপোকাগুলো যদি না বের হয় তাহলে তেলাপোকার ওষুধে কিভাবে কাজ হবে!

আমি অবাক হয়েই বলতে বাধ্য হলাম, কথায় যুক্তি আছে। 

Tuesday, April 19, 2011

Ethics বলে কি আদৌ Marketing-এ কিছু আছে?


এইখানে আসলে Ethics বলতে কি হবে? বিভিন্ন অবস্থা, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আসলে Ethics-এর ব্যাখ্যা আলাদা। আমি মার্কেটিং-এ চাকরী করি, আমার পড়ালেখাও একই ধারায়। পড়ার সময় তো আমরা কত কিছুই পড়ি। পড়ার সময় মার্কেটিং-এর বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে একটা পেয়েছিলাম “Marketing  Ethics”। সেখানে পাঠ্য অনেক কিছুই ছিল। কিন্তু তাতে কি! বাস্তব আর পড়ালেখার মধ্যে অনেক তফাত!

কিন্তু তাই বলে কি বাস্তবে আসলেই মার্কেটিং-এ কোন Ethics নেই? হ্যাঁ অথবা না, এইটা ঢালাওভাবে বলে দেয়া যায় না। তবে এইটুকু বলতে পারি, মার্কেটিং-এ কোন কিছুই স্থির (permanent) নয়! আজকে যদি কোন বিষয়ের একটা ব্যাখ্যা হয়, কালকেই সেটা বদলে যেতে পারে। আসলে মার্কেটিং সময়ের সাথে আর অবস্থার সাথে পরিবর্তন হয়ে যায়। সম্পুর্ণ বই পড়ে মার্কেটিং জানা যায় না।


একটা ঘটনা বলি।

সেইদিন অফিসের মিটিংয়ে বসে আছি। বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা চলছে। এর মধ্যে একটা ইস্যু উঠল, আমাদের সিমেন্টের নতুন একটা “অটো-সিস্টেম ঘাট” হবে মিরপুরে। কিন্তু বিগত কিছু সময় যাবত কোন এক টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এর উদ্বোধন সময় পিছিয়ে যাচ্ছে।  এই অবস্থায় আমাদের ডি.এম.ডি স্যার মিটিংয়ে নির্দেশ দিলেন, “তোমরা ঘাটের সাথে কথা বলে একটা ডেট (সময়) ফিক্স কর। তারপর মিলাদ দাও।” সবাই কিছু সময় চুপ থাকলেন। তারপর বুঝতে পারলেন আসল ঘটনা। এবার সবাই খুশি। সাথে সাথে ঘাটে ফোন করে মিলাদের সময় ঠিক করে ফেললেন।

আমি ব্যাপারটা ঠিক ধরতে না পারায় আমার সাথে বসা একজন রিজিওনাল ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা স্যার ব্যাপারটা কি ঘটল? তিনি আমাকে ব্যাখ্যা করলেন। এবং এর সাথে এটাও বললেন, শুধু “কটলার” (Philip Kotler)-এর বই পড়ে মার্কেটিং শেখা যায় না।  Experience বলে একটা ব্যাপার আছে।

(আপনাদের সুবিধার জন্য আমি ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে দিচ্ছি)
হেড অফিস থেকে যখন মিলাদ-মাহ্‌ফিল আয়োজনের কথা বলা হয়, স্বাভাবিকভাবেই ঘাটে তখন কাজের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। এতদিন আলোচনা করেও যখন কাজ শেষ করা যাচ্ছিল না, সেই মুহুর্তে মিলাদ-মাহ্‌ফিলের কথা মানে হচ্ছে, কোম্পানী চাচ্ছে ওইদিন কাজটার উদ্বোধন হবে। আর যেভাবেই হোক ঘাট কাজটা শেষ করার জন্য উঠে-পড়ে লাগবে। একই সাথে সাপও মরবে আর লাঠিও ভাঙ্গবে না। 

যাই হোক, Ethics নিয়ে কথা বলছিলাম। কিন্তু কি বলব, কিছুই বলার নাই। আগের একটা পোস্টে বলেছি যে, আমার চাকরীর বয়স মাত্র এক বছর। গত এক বছরে আমি অনেক কিছু শিখেছি, এখনো শিখছি আর আরো অনেক কিছু শেখার আছে। এই জায়গাটায় একটা জোকস্‌ বলতে ইচ্ছা করছে, "জানার কোন শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই"!  হা হা হা ... 

-রেজওয়ান
যোগাযোগ- rezwaneye2000@gmail.com

Wednesday, March 30, 2011

রাস্তায় একটা রিকসাও নেই!



"কি আশ্চর্য কথা! রাস্তায় একটা রিকসাও নেই!"
"না নাই।"
"এইটা কোন কথা হল!"

বলেই আমি বেরিয়ে গেলাম বাসা থেকে। এমনিতেই দেরি হয়ে যাচ্ছে অফিসের জন্য, তার উপর যদি রিকসা না পাই তাহলে কিভাবে হবে? দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে পৌঁছলাম মেইন রোডে। আমার বাসা থেকে মেইন রোডের রিকসা ভাড়া ১০ টাকা। আমি হেঁটেই চলে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মত আরো অনেক হতভাগা মাথায় হাত দিয়ে (কথার কথা) দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায়। কোন রকম একটা রিকসা পেয়ে গেলাম, আর উঠে পড়লাম। এক্কেবারে "ইলেভেন্থ আওয়ার" যাকে বলে, সেই সময়ে অফিসে পৌঁছলাম। শান্তি! কিন্তু আসলে হচ্ছে কি?

কিছুক্ষণ পর পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম। রিকসা ধর্মঘট হল এর কারণ।



কিছুদিন আগে (কোন এক শনিবার) অফিস থেকে বেরিয়েছি, যাব ইউনিভার্সিটি। রিকসা ঠিক করতে গিয়ে পড়লাম বিপদে। কেউ যাবে না ইউনিভার্সিটি। কেন?

"স্যার, রাস্তা বন্ধ কইরা দিছে। পেরেস কেলাব দিয়া আর যাইতে দেয় না।"
"কোন মিটিং আছে নাকি!"
"জানি না, যাইতে দেয় না। কয় রাস্তা বন্ধ কইরা দিব। গুলিস্তান দিয়া ঘুইরা যাওয়া লাগব।"
"কবে থেকে হল এইটা?"
"এইত আইজকা।"

ভাবলাম, কি আর হবে! হেঁটেই চলে ইউনিভার্সিটি। গেলামও তাই। তবে আসলে পরে বুঝলাম এর পরিণতি কি হয়েছে।

রাতে বাসায় এসে শুনি, আমার বোনের খুব মেজাজ খারাপ। ইউনিভার্সিটি যেতে তাকে অনেক ঘুরে ঘুরে যেতে হয়েছে। আসার সময় কোন রিকসা আসতে রাজি হয়নি। কিছুদূর হাঁটতে হয়েছে। কারণ হচ্ছে এই রাস্তা বন্ধ।

"কতখানি ঘুরতে হয়েছে?"
মালিবাগ মোড় থেকে সাধারণত ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাবার রাস্তা হচ্ছে, মালিবাগ মোড় - শান্তিনগর - কাকরাইল - সেগুনবাগিচা - প্রেসক্লাব - হাইকোর্ট - দোয়েল চত্বর হয়ে টি.এস.সি মোড়।

কিন্তু ওইদিন রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে তাকে ঘুরতে হয়েছে-
মালিবাগ মোড়  - শান্তিনগর - কাকরাইল - বিজয়নগর - জিরো পয়েন্ট - গুলিস্তান - পুরান ঢাকা - বঙ্গবাজার - ঢাকা মেডিক্যাল - শহীদ মিনার - টি.এস.সি মোড়।


আর অফিসে যাবার দিন যা রিকসার ধর্মঘট ছিল। কারণ হচ্ছে- মালিবাগ মোড় থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত, মালিবাগ থেকে রামপুরা রোড এবং মালিবাগ থেকে মগবাজার হয়ে কাকরাইল পর্যন্ত রাস্তায় রিকসা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। কেন? কেউ জানে না।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত আরোপ করা হয়েছে, যা গতকালের (২৮ মার্চ ২০১১) ধর্মঘট ও রিকসা চালকদের ভাংচুর সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোন অপরিবর্তিত আছে। এই রাস্তাগুলোকে হঠাৎ করেই কেন "ভি.আই.পি" রোড করা হল? নাকি জ্যাম কমানোর জন্যই এটা করা হয়েছে? কেউ জানে না।



আমার কথা হচ্ছে, জ্যাম কমানোর জন্য যদি এই সিন্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে ব্যাপারটা খুব বেশি ভালো হয় নি। রাস্তা শুধুমাত্র এক গ্রুপের (যাদের গাড়ী আছে) চলাচলের জন্য নয়। রাস্তা সবার জন্য। এইটা আমাদের দূর্ভাগ্য যে আমাদের শহরে রাস্তা কম, মানুষ বেশি। তাই বলে কি মানুষ রাস্তায় চলাচল করবে না? তাদের চলাচলের একটা বাহন তো দিতে হবে।

এই মুহুর্তে ঢাকা শহরে যে পরিমাণ মানুষ বাস করে তাদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গণপরিবহন নেই। কিছু সংখ্যক রুটে বাস চলাচল করে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। বেশিরভাগ অফিসগামী, বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিগামী ছেলে-মেয়েদের জন্য রিকসা একমাত্র ভরসা। যাদের এখন মাথায় হাত!

আমি এখানে সরাসরি রিকসার সাপোর্টে অথবা বিপক্ষেও কিছু বলছি না। আমি কথা বলছি গণপরিবহন নিয়ে। যেখানে এতসংখ্যক মানুষ (সঠিক পরিসংখ্যান আমার জানা নাই) যে বাহন ব্যবহারে নিত্য কাজ সম্পাদন করে, তাদের কাছ থেকে কেন বাহনটি ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে? তাদের জন্য কি কোন বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে? হয়ে থাকলে সেটা কেন তাদের জানানো হয় নি?



একটা নিয়ম বানানো খুবই সহজ। কিন্তু সেটার বাস্তবায়নে দেখা যায় যত ঝামেলা। যে কারণেই আমাদের দেশে বেশিরভাগ ব্যাপারে আইন আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। একটা নিয়ম করার সময় এটার সাথে যাদের ভাগ্য জড়িত তাদের সাথে কোনরকম আলোচনা ছাড়াই এই নিয়ম কেন করা হল?

রাস্তায় সবাই চলাচল করবে। শুধু যদি চার চাকার বাহন চলাচল করে, তাহলে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন পর্যাপ্ত সংখ্যক চার চাকার বাহন গনমানুষের জন্যও থাকে। আমি কথা বলছি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের, মানে বাস অথবা ট্যাক্সি, সি.এন.জি.।

জ্যামের দোহাই দিয়ে রাস্তায় চলাচল বন্ধ করা তো কোন সমাধান হতে পারে না। বরঞ্চ আমাদের দেখতে হবে কিভাবে আমরা আমাদের রাস্তাগুলো পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারি এবং নতুন নতুন রাস্তা করতে পারি।

- রেজওয়ান
যোগাযোগঃ rezwaneye2000@gmail.com