Saturday, May 11, 2013

কোন দেশে আছি আমরা!

"এই কে? কে ছাদে? ডাকতেসি শুনে না কেন! কে ওখানে? ... মানুষ দেখা যাচ্ছে অথচ কথা শুনে না... আগুন লাগল নাকি!!! ছাদে কে? আগুন কেন ছাদে??"

অনেক সময় ধরে খুবই ক্ষিণ কন্ঠে ভেসে আসছিল এই কথাগুলো। কান পেতে শুনলাম এক ভদ্রমহিলা তারস্বরে চিৎকার করছেন আমাদের মনোযোগ আকর্ষনের জন্য। আমরা তাকালাম-

"জ্বি, আমাদের বলছেন?"
"হ্যা! ওখানে আগুন দেখা যাচ্ছে, কি হচ্ছেটা কি?"

বিরক্ত হলাম। এক মহিলা তার বাসার বারান্দা থেকে ছাদে আমাদের উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছিলেন। আমরা ঠিক তার মাথা উপরে। সাধারণত বাসার বারান্দা থেকে ছাদে কি হচ্ছে তা দেখা যাবার কথা না। কিন্তু ওই বারান্দাটা আবার একটু বাইরের দিকে ঝুলন্ত। তাই সে তাকিয়ে ছাদের এক কোণায় (যা ঠিক তার মাথার উপর) আমাদের দেখতে পাচ্ছিলেন।

আমাদের উত্তরঃ "আমরা বার-বি-কিউ করছি"
ভদ্রমহিলাঃ "ও! তা শুনেন না কেন? কতক্ষণ ধরে ডাকছি!"
"বুঝি নাই যে আমাদেরই বলছেন, আমাদের নাম ধরে তো আর বলেন নাই!।"
"আসলে ফ্ল্যাট-বাড়ি তো... ... আমিতো সবুজকে অনেক্ষণ ধরে ডাকলাম, আগুন দেখে ভয় পেয়ে গেছিলাম..."

আমরা তিন বন্ধু খুব বিরক্ত হলাম! সামান্য একটা বার-বি-কিউ এর আগুন দেখে মহিলা যে রিএকশন দিলেন তাতে আরেকটু হলে তো মনে হয় তিনি ফায়ার-সার্ভিস খবর দিয়ে দিতেন!

বন্ধুর নতুন চাকরীর সুবাদে আমরা ৫জন পার্টি করছিলাম তার বাসার ছাদে। বার-বি-কিউ এর জন্য আগুন ধরাতেই হয়ে গেল এত কাহিনী!

আসলে বর্তমানে আমাদের দেশের যা অবস্থা তাতে এই ধরনের ভয় পাওয়া খুবই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।

Monday, September 3, 2012

জানি না কি হল... ?!

গভীর রাতে হঠাৎ করে ঘুম ভেঙ্গে যায়!
জেগে উঠলাম।
কেন জানি খুব ভয় মনের ভিতর অনুভব করলাম!
ঘড়ির দিকে তাকালাম; ৩:৩০টা বাজে।
বিছানায় উঠে বসলাম।

আলোটা জ্বালাতেই খেয়াল করলাম বিছানার পাশের জানালাটা খোলা! একবার মনে হল শুয়ে পড়ি। কেন জানি পারলাম না। কি যেন একটা চিন্তা মনে জেগে উঠল! ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না।

এই প্রথম অনেক বছর পর একটা অজানা ভয় পেয়ে বসল মনে। আমি জানালার দিকে তাকালাম। এগিয়ে যেতে সাহস পেলাম না। আবার জানালা খোলা অবস্থায় ঘুমাতে যেতে সাহস করছিল না। ধীরে ধীরে জানালার দিকে এগুলাম।

বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার; সাথে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।
আমি আসতে করে হাতটা বাড়ালাম জানালার দিকে।
আবারও ভয় হল মনে!

তাড়াহুড়া করে জানালাটা বন্ধ করে দ্রুত সরে আসলাম আর বিছানায় বসে পড়লাম। খানিক্ষণ চিন্তা করার চেষ্টা করলাম যে আসলে কি হয়েছিল! কিন্তু কোন উত্তর খুঁজে পেলাম না।

এই ধরনের কোন অজানা ভয় আমি আগে কখনও পাইনি! একইসাথে খুবই অবাক হলাম এবং ভয়ও পেলাম। জানি না কি হয়েছিল! তারপর ঘুমাতে গেলাম...

Sunday, August 5, 2012

নতুন প্রজাতির ডেঙ্গু!

সাধারণত ডেঙ্গু-জ্বর কেমন হয়? প্রচন্ড জ্বর থাকে, সাথে বমি ভাব, গায়ে র‍্যাশ আর তার সাথে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়। এই লক্ষণ গুলো খুবই সাধারন এবং সবার মধ্যে দেখা যায়, যাদের ডেঙ্গু হয়।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হল ভিন্ন জিনিষ! আমার জ্বর শেষ আরও ২দিন আগে। বমি ভাবও চলে গেছে। খাওয়া দাওয়া ঠিকমতই করতে পারছি। এরমধ্যে ডাক্তারের অনুরোধে রক্ত পরীক্ষা করতে গেলাম। দেখি আমার প্লাটিলেট কমে গেছে। সাধারণত থাকার কথা ১৫০,০০০ এর চাইতে বেশি, আমার ছিল ৪০,০০০।

এত কমে যাওয়ার পরেও আমি দিব্যি ঘরে ছিলাম, নিজেই খাওয়া দাওয়া করলাম। আল্লাহর রহমতে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় নাই। একটা স্যালাইন দিয়েই কাজ হয়ে গেছে। একদিনেই মাশাআল্লাহ প্লাটিলেটও উপরে উঠে গেছে। জ্বর তো একেবারেই ছিল না। 

Saturday, June 16, 2012

আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে...

পৃথিবীতে এখন জলবায়ু সংকট চলছে। সারা বিশ্বের জলবায়ু এখন বিপর্যয়ের শিকার। বাংলাদেশও এর থেকে দূরে নয়। বরং বাংলাদেশই সবার আগে এর শিকার হবে বা হচ্ছে!

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গতকাল থেকে আষাঢ় মাস শুরু হয়েছে। এইবছর যেভাবে শীত, গরম সময়মত আসেনি, সময়ের আগে পরে এসেছে; তাতে ধারণা করা হচ্ছিল যে এইবার বর্ষাও দেরি করে শুরু হবে। গতকালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও ৩-৪ দিন পর বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু আজ সকাল থেকে ঘন্টাখানেক বৃষ্টি হয়ে গেছে। আহ! চরম গরমের পর শান্তির ধারা বয়ে চলেছে।

এই বছর আমাদের দেশে যা গরম পড়েছে তার সাথে মরুভুমির দেশে জেদ্দার তাপমাত্রার পার্থক্য ক্ষেত্রবিশেষে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এই ভয়াবহ গরমের পর এই অধর বর্ষা অবশ্যই আশীর্বাদ স্বরুপ। 

বৃষ্টি দেখেই সকাল থেকে একটা গান মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে-

আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে
জানি নে জানি নে, কিছুতে কেন যে মন লাগে না...
আজি ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে...

Friday, November 25, 2011

একটা কাক!

যদিও বৃহস্পতিবার, তারপরও বাসায় ছিলাম। ঘুম ভাঙল সোয়া ১১টায়। ঘুম ভেঙ্গে মোবাইলের দিকে চোখ যেতেই দেখলাম দুইটা রিমাইন্ডার। একটা জরুরী ফোন করার দরকার ছিল ১১টায়। তাড়াতাড়ি উঠে ফোন করলাম। কথা বলতে বলতে গেলাম বারান্দায়। আমার অভ্যাস হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা। 

কথা বলা শেষ করে রাস্তার দিকে তাকাতেই দেখলাম আমাদের বাসার সামনে গেটের ভিতরে এলাকার কিছু পোলাপান হৈচৈ করছে। তাকিয়ে দেখলাম একটা কাক বসে আছে, আর সব পিচ্চিগুলা ওইটাকে ঘিরে আছে। একজন দেখি লাঠি নিয়ে এসেছে খোঁচাখুঁচি করবে মনে হয়। আমি দিলাম এক ধমক। সব পিচ্চি দৌড়। কাকটি তারপরও বসে আছে। উড়ে যাচ্ছে না।

নিচে নামলাম। দেখি কাকটা আহত। একটা পা আর সম্ভবত গলা। উড়তে চেয়েও পারছে না। আমি কাকটাকে একটু সাইডে নিয়ে গেলাম। একটা কোনে থাকার জায়গা দিলাম যাতে আর কেউ খোঁচাখুঁচি করতে না আসে। পানি দিলাম। একটু একটু করে অনেকখানি পানি খেয়ে ফেলল। বুঝলাম ক্ষুধার্ত ছিল। খাবার দিলাম, তেমন একটা খেল না। কিন্তু বারবার পানি খাচ্ছে। আমি ওই অবস্থায় রেখে চলে আসলাম।

একটু পর দেখি কয়েকটা কাক একসাথে ডাকাডাকি করছে। বারান্দায় গিয়ে দেখি তিন চারটা কাক এসে এসে দেখে যাচ্ছে  আহত কাকটিকে। এর মধ্যে একটা কাক উপরে তারে বসে মুখে করে খাবার এনে নিচে বসা কাকটির দিকে ফেলছে। মানে কাকগুলো তাদের আহত বন্ধুকে অথবা পরিবারের সদস্যকে সেবা করছে।

আমি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ভালো লাগল। 

চড়ুই বিপত্তি (ফলো-আপ)

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১০ তারিখে লেখা আমার একটা ব্লগে আমি একবার চড়ুইয়ের কাহিনী উল্ল্যেখ করেছিলাম (লিঙ্কটা দিয়ে দিলাম- http://diary-rezwan.blogspot.com/2010/09/blog-post_22.html)। তারই ফলোআপ হিসেবে এই পোস্ট।

আজ (বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১১) বিকেলে খেয়াল করলাম আমার বারান্দায় আবারো চড়ুইয়ের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিচির মিচির শুনতে আমার ভালোই লাগে। আমার খুব ভালো লাগল যে এরা আবার ফিরে এসেছে। কিছুক্ষণ পর দেখলাম এরা আমার গাছে চড়ে বারান্দায় ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে থাকায় ভিতরে আসছে না। তাই আমি ভিতরে চলে গেলাম, আর লুকিয়ে ওদের কান্ড দেখতে লাগলাম।

আমি দেখলাম, প্রায় বছর খানেক আগে আমার গাছ বাঁচানোর জন্য আমি চড়ুইয়ের যেই বাসাটা ঝুলিয়ে ছিলাম, তাতে বসে আছে এক চড়ুই। আর আরেকটা বসে আছে আমার গাছের ডালে। দেখে ভালো লাগল। আমার এতদিনের শখ ছিল যে খাঁচায় বন্দি না করে কিভাবে পাখি পোষা যায়, আমার মনে হয় সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

আমি খাবার দিলাম। ওরা সেই খাবার খুটিয়ে খেল। তারপর কিচির মিচির করতে করতে বাসায় ঢুকে গেল।

আহ! শান্তি! দেখে ভালো লাগল! আর তাই এই ফলোআপ পোস্টটা লিখলাম। 

Monday, August 22, 2011

পরীক্ষা এবং তেলাপোকা!

টাইটেল দেখে মনে হতে পারে আমি পাগল হয়ে গেছি। কিন্তু না, আমি পাগল হইনি। একটা ঘটনা শেয়ার করতে চাই। শুনলেই বুঝবেন কি বলতে চাচ্ছি।

এই বছর ভয়াবহ গরম পড়েছে। গরমের সাথে আছে চরম বৃষ্টি। আর এখনতো বর্ষাকাল। তাই প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। আর খুবই স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ছোট ছোট পোকা-মাকড়ের উৎপাত। আমাদের বাসাতেও একই অবস্থা। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা অনুভব করলাম বাসায় তেলাপোকার উৎপাত একটু বেশিই বেড়েছে। তাই প্রতিদিনই তেলাপোকা মারার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরও উৎপাত কমছে না।

এমতাবস্থায় আমার আম্মু অনেক চিন্তা করে খুঁজে বের করল যে আমার বোনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কারণেই তেলাপোকাগুলো মারা যাচ্ছে না। আমি অবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, মানে কি? আম্মুর অভিমত হচ্ছে, আমার বোনের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তার এখন কোন কাজ নেই। তাই সে রাত জেগে থাকে। সে রাত জাগলে ঘরের লাইট জ্বালানো থাকে। আর ঘরের লাইট জ্বালানো থাকলে তেলাপোকাগুলো বের হয় না। আর তেলাপোকাগুলো যদি না বের হয় তাহলে তেলাপোকার ওষুধে কিভাবে কাজ হবে!

আমি অবাক হয়েই বলতে বাধ্য হলাম, কথায় যুক্তি আছে।